IAS

স্বপ্নের কোনও বয়স হয় না—নিসা উন্নিরাজনের লড়াই থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা

কখনও ভাবা হয়, ইউপিএসসি কি শুধু ২০-এর কোটায় শুরু করা তরুণদের খেলা? নিসা উন্নিরাজনের গল্প সেই ধারণাকে একেবারে ভেঙে দেয়। কেরলের এই নারী ৪০ বছর বয়সে, দুই কন্যাসন্তানের মা হয়ে, প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রবণশক্তিহীনতা নিয়েও সপ্তম প্রচেষ্টায় IAS অফিসার হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি চাকরির গল্প নয়; এটি স্থিরতা, সাহস আর আত্মবিশ্বাসের এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

নিসার যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেক দেরিতে—দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পরে, ৩৫ বছর বয়সে। তখন চারপাশের অনেকেই তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল, কেউ কেউ বলেছিল এ পথে নামা নাকি কঠিন। কিন্তু তিনি সেসব কথাকে মন থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজের লক্ষ্যকে সামনে রেখেছিলেন। জীবনে যখন মানুষ আপনাকে দেরি বলে, তখনই অনেকের কাছে যাত্রা শেষ মনে হয়—নিসা দেখালেন, আসলে সেখান থেকেই নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

তাঁর সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ছিল সময়কে জয় করা। একদিকে সংসার, দুই মেয়ের যত্ন, স্কুলের প্রস্তুতি, আর অন্যদিকে পূর্ণকালীন চাকরি—এই সব সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। তবু তিনি ভোরে উঠে দেড় ঘণ্টা পড়তেন, আর অফিসযাত্রার ট্রেনকেও বানিয়ে ফেলেছিলেন পড়ার সঙ্গী। বই, অনলাইন স্টাডি ম্যাটেরিয়াল—যেখানে যতটুকু সময় পেয়েছেন, সেখানেই তিনি নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এটাই আসল মন্ত্র: বড় সময় নয়, নিয়মিত ছোট ছোট সৎ প্রচেষ্টা সাফল্য তৈরি করে।

শারীরিক সীমাবদ্ধতাও তাঁকে থামাতে পারেনি। শ্রবণশক্তি কম থাকায় তাঁকে অনেক সময় হিয়ারিং এইড ব্যবহার করতে হয়েছে, কথাবার্তা বুঝতে ঠোঁটের নড়াচড়া দেখতে হয়েছে। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। স্বামী, বাবা-মা, আর একজন অনুপ্রেরণাদায়ী IAS কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা তাঁকে শক্তি দিয়েছে। ছয়বার ব্যর্থ হওয়ার পরও তিনি থেমে যাননি; বরং প্রতিবার ব্যর্থতাকে শিক্ষায় বদলে নিয়ে এগিয়ে গেছেন। অবশেষে ২০২৪ সালের পরীক্ষার ফল তাঁর জীবনে সাফল্যের দরজা খুলে দেয়।

নিসা উন্নিরাজনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রস্তুতি শুরু করতে দেরি হয়েছে, সমস্যা আছে, দায়িত্ব আছে, ব্যর্থতা আছে—এগুলো কোনওটাই শেষ কথা নয়। শেষ কথা হলো, আপনি কতটা বারবার উঠে দাঁড়াতে পারেন। যারা UPSC বা অন্য কোনও বড় লক্ষ্য নিয়ে লড়ছেন, তাঁদের জন্য নিসা একটাই বার্তা দিয়ে যান: বয়স বাধা নয়, পরিস্থিতি অজুহাত নয়, আর ব্যর্থতা শেষ নয়। স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখুন, একদিন সেটাই আপনাকে নতুন পরিচয় দেবে।

Share your love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *